দেশমৃত্তিকা ৬

“অন্ধজনে দেহ আলো”
কলকাতার বাতাসে নানান রোগজীবাণু ভেসে বেড়ায়, এতে নতুন কিছু নেই। শীতের টান পড়েছে চামড়ায়, ফাটাফুটি দিয়ে তেমনই কোনো জীবাণুবাবাজি ঢুকে পড়েছিল ডান আঁখিপল্লবে।রকি বালবোয়ার ম্যাচের পরের মতো চোখ নিয়ে গৃহবন্দী থাকতে হয়েছিলো সপ্তাহখানেক। বড় ডাক্তারবাবুকে দেখাবো বলে একদিন গেছি বাড়ির কাছেই ড. নীহার মুন্সী আই ফাউন্ডেশনে। ওয়েটিং হলে আমার পাশে এসে বসলেন এক বছর পঁয়ত্রিশের ভদ্রসন্তান। তখন খেয়াল করিনি, ডানদিকে  “অপাঙ্গে দেখা”র প্রশ্নই নেই, কিন্তু কথোপকথন শুনে বুঝলাম আমাদের পেছনের সারিতেই ওনার বাবা এবং স্ত্রী বসেছেন। বৃদ্ধের ছানির অস্ত্রোপচার হয়েছে দিনকয়েক আগে, ফলো আপের জন্য বৌমা গাড়ি চালিয়ে নিয়ে এসেছেন ক্লিনিকে।
“এখানে আসার অন্য কোনও রাস্তা নেই, বাবা? এই বস্তির রাস্তাটা যা ডেঞ্জারাস।”আমার পাশের ভদ্রলোকটিকেও শুনলাম সায় দিচ্ছেন। বৃদ্ধ বললেন,”আছে, তিন-চার ভাবে আসা যায়, কিন্তু অনেক গলিটলি, আমি তো দেখতে পারছি না, বলে দিতে পারতাম না।””আরে অপারেশনের দিনেও দেখলাম, আজকেও এক মহিলা হঠাৎ করে গাড়ির সামনে এসে পড়লো। এদের কোনো সেন্স নেই! আমি সাবধানেই চালাচ্ছিলাম, জোরে ব্রেক দিতে হলো শুধুমুধু”।”সব তো খোট্টা! জবরদখল করে বসেছে এখানে রাস্তার ধারে, দেখনি? যেখানে যাবে মেস্ করে রেখে দেবে। এদের আবার সেন্স! কিন্তু গাড়ি যদি কোনো কারণে একটু টাচও হয়ে যায়, তাহলে তোমাকে কিন্তু শেষ করে দেবে! তাই আমাদেরকেই সাবধানে চলাতে হয়”, আমার পাশের জন যোগ করেন।”সত্যি! ভোটের জন্য রেখে দিয়েছে এই বস্তিগুলো। ন্যুইস্যান্স ভ্যালু সব।” ভদ্রমহিলার দেখলাম তখনো রাগ কমেনি।”তোমরা যেটাকে বস্তি বলছো, ওগুলো ম্যুনিসিপ্যালটির কোয়ার্টার্স আসলে।” এবারে বৃদ্ধের গলা শুনতে পাই।”ঐ একতলা ঝুপড়ির মতো বাড়িগুলো কোয়ার্টার্স?””হ্যাঁ। ম্যুনিসিপ্যালটির সুইপারদের। ঐ যে সকালে বাঁশি বাজিয়ে আসে না আবর্জনা নিতে? তারপর রাস্তা ঝাঁট দেওয়া, বাথরুম পরিষ্কার-টরিষ্কার সব ওরাই করে। বাঙালিরা তো আর করবে না এসব কাজ।”তরুণ দম্পতিটিকে চুপ করে যেতে দেখলাম। 
Refraction test -এর জন্য ততক্ষণে আমার ডাক এসেছে, ওদের ছেড়ে উঠে গেলাম ভেতরের ছোটো ওয়েটিং হলে।  ভেতরের সমস্ত চেয়ার ভর্তি। অগত্যা স্বাস্থ্য বীমা সহায়কের কেবিনের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ালাম। এই ভদ্রমহিলা, দীপাদিকে আগেও দেখেছি অসীম ধৈর্য্য নিয়ে বয়স্ক মানুষগুলোর সঙ্গে কথা বলতে, বীমা কোম্পানির ক্লেইম ফর্ম ভরে দিতে। আজ বছর পঁয়ষট্টির এক মহিলা বসে ওনার সামনে। ছানির অপারেশন হবে। পরের সপ্তাহে তারিখ দেওয়া হয়েছে।
দীপাদি বার দুয়েক ফাইল উল্টেপাল্টে দেখে মুখ কাঁচুমাচু করে বললেন, “বি এস এন এলের হেল্থ প্ল্যানটা তো বন্ধ করে দিয়েছে। আপনাকে কিন্তু ক্যাশে পেমেন্ট করতে হবে।””জানি ভাই। যারা এখনো চাকরিতে আছে, তাঁরাই বেতন পাচ্ছেনা, আমাদের চিকিৎসার টাকা আর কোত্থেকে দেবে বলো?”
ঠিক সে সময়েই অপ্টোমেট্রিস্ট এক ভদ্রলোক সেসময় বেরোত গিয়েই আমার মুখোমুখি।”ওহ্ আপনার swellingটা এখনো কমেনি দেখছি! একটু দাঁড়ান। আসছি।”
শুনেছি দৃষ্টির জোর কমে গেলে নাকি অন্যান্য ইন্দ্রিয় বেশি সজাগ হয়ে ওঠে। দীপাদি শুনলাম বলছেন, “আপনার টোটাল খরচা হবে ১৬৫৮১ টাকা। অপারেশনের দিন সকালে পুরোটা নিয়ে আসবেন।”

The 3-Card Brag

When a headless and limbless human torso is recovered from the backyard of a South Kolkata house, Police Detective Sutanu Deb meticulously gathers shreds of evidence revealing the inglorious past of the victim and the perpetrators. ‘Teen Patti’ is a story about lust, greed, pride, and unrequited love. 

A colonial bungalow at the heart of Bangalore had earned the reputation of a haunted house. An enthusiastic group of Ghostbusters ventures into the house at midnight and puts the rumours to rest. ‘The Tune’ is a chronicle of the misadventure that unsettled the dust on a long-buried past with consequences no one had bargained for.

Like his first collection of short stories ‘They Go to Sleep,’ Saugata ends this book with a romantic short ‘An Affair to Forget.’ Only this time the central characters are teenagers and the setup a little less amusing. 

A winning deal of three cards from Saugata’s pack of stories, ‘Teen Patti: The Three-card Brag’ will certainly keep you hooked till the very end.

Worth reading from cover to cover, ‘They Go to Sleep’ is interesting on a whole new level- Bookgeeks.in

It is not me, but Alexa that tells Bookgeeks.in to be India’s No. 1 ranked Book Review Websites. Looking at their reviews, it gave me jitters on the thought of putting ‘They Go to Sleep’ through the Acid Test. Today, on April 10 night, the report card is ready. Here is the link to their full review.

They Go to Sleep | Saugata Chakraborty | Book Review

The much admired cover. Picture Courtesy: Aparesh Sarkar

সিরিয়াল কিলার

১.

পূর্বপুরুষের ভিটেয় শুনেছি জোড়া বন্দুকের পুজো হতো;
আবার একই উঠোনে বসে পথশ্রান্ত আব্বাসউদ্দীন
ভাওয়াইয়া ধরতেন।
জলের দেশ ছিল সে এক,
জমিদারদের লেঠেলবাহিনীর সঙ্গে
বেপরোয়া মাঝিমাল্লাও ছিল-
রাতে ব্যবসায়ীদের নৌকো এড়িয়ে চলতো
বজ্রযোগিনীর ঘাট।
তাই রক্তের কথা উঠলে
এখনো একটা ভয় কাজ করে
পুঁথি লেখা হাত নিশপিশ করতে থাকে
দেরাজে তুলে রাখা গুপ্তিটা ধরার জন্যে।

দেশমৃত্তিকা (পঞ্চম কিস্তি )

জঙ্গল সরে গেলেও অবচেতনে রেখে যায় স্থায়ী ছাপ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে নরম গদিতে শুয়েও হঠাৎ কোনো উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়ার দু:স্বপ্ন এক ধাক্কায়  জাগিয়ে দিলে জানবেন অগণিত প্রজন্ম আগে আপনার কোনো পূর্বপুরুষ জঙ্গলের গাছের ডালে শুয়ে রাত কাটিয়েছেন, ভয়ে ভয়ে থেকেছেন ঘুমের মধ্যে টুপ করে খসে পড়লেই এক্সেরেটডনের হামলে পরার।

গুহামানবেরা সব কিছুই শিখতেন পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে। ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরলে তার গন্ধে গন্ধে উপস্থিত হতে পারে হিংস্র শ্বাপদ, এটা বুঝতে তাদের বেশি সময় লাগার কথা নয়। তাহলে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া নারীদের এই আক্রমণ থেকে বাঁচানোর উপায় কী? জানা যায় না। কিছুটা অনুমান করা যায় আদিম গুহাচিত্রের থেকে। না, ভারতবর্ষের কোনো গুহাচিত্রে এমন ছবি নেই, কিন্তু বর্তমান কালযাপনের ছবিই এখানে এতো জীবন্ত, যে সেরকম ঐতিহাসিক প্রমাণের প্রয়োজন পরে না।

প্রাগজ্যোতিষপুর। পুরো শহরটাই নাকি আজকের গৌহাটির তলায় চাপা পড়েছে। তবে ওই যে  অতীতের পশ্চাদপসারী পায়ের ছাপ। আজও গৌহাটি মন্দিরের শহর। এদের মধ্যে অন্যতম নবগ্রহ মন্দির প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চার সাক্ষ্য বহন করে। কিন্তু ফি বছর অম্বুবাচীর সময় এবং অন্যান্য দিনেও গৌহাটির আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু কামাখ্যা। শক্তিপীঠগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য কামাখ্যাতে দেবীর যোনি পড়েছিল বলে বিশ্বাস। সাধারণ মানবী নন, স্বয়ং শক্তিস্বরূপিণী, তাই তাঁর ‘মাসিক’ হয়না, অম্বুবাচীর দিনগুলো বার্ষিক ঋতুস্রাবের। বর্ষাঋতু। শক্তি এখানে তাই সজলা, প্রাণদায়িনী। মন্দিরের আশেপাশে যদিও এখন মাতা বৈষ্ণোদেবী আদলের দেবীমূর্তি কামাখ্যার প্রতিরূপের নামে বিক্রিবাট্টা হয়, আসলে এখানে উপাস্য যোনীর আকারের এক কুন্ড, অম্বুবাচীর সময় যার জল হয়ে ওঠে রক্তাভ। আপামর ভক্তসাধারণকে তো আর দেবীর এই অবস্থা দেখতে দেওয়া যায় না। তাই চারদিনের জন্য মন্দির বন্ধ করে দেওয়ার রীতি। সব মিটে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এখনো প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন দেবীরক্তে রঞ্জিত একটুকরো কাপড়ের জন্য।

আর যদি কোনো বছর দেবী পিরিয়ড মিস করেন? হিপ্পোক্রেটসের মতে এক বালতি পরিমাণ রক্ত না ঝরলে বুঝতে হবে ‘শরীর খারাপ’ হয়েছে। জনশ্রুতি বলে শেষ এরকমটা হয়েছিল ১৯৫০-এ। যে আজ্ঞে, আসামের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের বছর ছিল সেটা। কোচ রাজাদের সঙ্গে কামরূপের যোগাযোগ বহু প্রাচীন। এমনকি এখন যে মন্দির আমরা দেখি তাও তাঁদের পুনর্নির্মিত। অথচ এদের উত্তরসূরীরা আজও অন্য ভক্তদের সঙ্গে যোগ দেন না অম্বুবাচী পালনে। কারণ হিসেবে বলা হয় সেই একই অভিশাপের কথা। কোচ রাজা নরনারায়ণ ও তাঁর ভাই এবং সেনাপতি চিলাৰায় নাকি নৃত্যরত অবস্থায় রজ:শীলা ষোড়শী দেবীকে দেখে ফেলেছিলেন। ফলে দেবীরোষে পরে নরনারায়ণই হলেন কামরূপের শেষ কোচ রাজা, তাঁর বংশধরদের সরে যেতে হয়েছিল কোচবিহারে।

কিন্তু নৃত্যরতা দেবী? আশ্চর্যজনকভাবে অস্ট্রেলিয়ার আপার ইউল নদী উপত্যকায় পাওয়া গুহাচিত্রে দেখা যায় অস্ত্র হাতে নিয়ে নাচতে থাকা এমনই দুই  নারীকে। তাহলে কী “শরীর খারাপ”-এর সময় মেয়েদের সব রকম শারীরিক কসরতই ছিল স্বাভাবিক, এমনকি ষোড়শ শতকের কামরূপে? আবারো উত্তর মেলে না।

 কামাখ্যার পুরোহিত সম্প্রদায় অবশ্য আপনাকে বলবেন কামরূপে দেবী এইভাবে পূজিতা বলেই ঋতুস্রাব নিয়ে এখানকার সমাজে তেমন বিধিনিষেধ নেই। যেটা আছে সেটা হলো উৎসবমুখরতা। টুলুনি বিয়া বা ছোট বিয়ে। প্রথম মাসিক শুরু হওয়ার কিছুদিন পরে মেয়েটির নারীত্ব প্রাপ্তির উৎসব এটি। কিন্তু প্রথম সে দিনটি কেমন?

আমার কন্যা গৌহাটির স্কুলে দু’বছর পড়ার সময় ওর বন্ধু সংখ্যা দু’আঙুলে গুনে ফেলা যেত। তাদের মধ্যে প্রথম এবং অন্যতম একটি দুষ্টু মিষ্টি মেয়ে, যার নাম ধরে নিন অনাম্নী। সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত পরিবার। বাবা স্ট্রাকচারাল কন্সাল্ট্যান্ট। ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বাড়িঘর, ইমারত, উত্তাল ব্রহ্মপুত্রের উপর দাঁড়িয়ে থাকা সেতু ইত্যাদি সুরক্ষিত আছে বা থাকবে কিনা সেসব জটিল গণনার কাজে ওর বিশেষ নামডাক। আমার সম্ভাব্য বদলির  খবর পেয়ে ওরা একদিন ওদের বাড়িতে নৈশভোজের আমন্ত্রণ করে বসলেন। বিশালকায় লিভিংরুমের সর্বত্র সুন্দর রুচির ছাপ। কিন্তু গুনগুনের প্রিয় বন্ধুটির দেখা নেই। ওর মা জানালেন মেয়ের প্রথম মাসিক শুরু হয়েছে। তাই ওকে একটা ঘরে বন্ধ থাকতে হবে পাঁচদিন। আরো বেশিও হতে পারতো, কিন্তু জ্যোতিষী ওর নক্ষত্রবিচার করে পাঁচদিনেরই বিধান দিয়েছেন। কাউকে কাউকে তো বারোদিন পর্যন্ত থাকতে হয়। চারদিনের মাথায় ওকে স্নান করানো যাবে। এ সময় সূর্য, চন্দ্র, গোমাতা এবং কোনো পুরুষমানুষ, এমনকি ওর বাবার মুখদর্শন করাও যাবে না। গুনগুন চাইলে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারে। তো সে কথাটথা সেরে বাড়ি ফেরার পথে উত্তেজিত হয়ে বলেই ফেললো, “জানো মাম্মা, অনাম্নীকে একটা স্ট্র বেডে শুতে হচ্ছে আর শুধু কলা খেতে হচ্ছে!” উপরি পাওনা অবশ্য এই যে স্কুলে যেতে হচ্ছে না, আর পাঁচদিন কামাই হলেও প্রিন্সিপাল পাঁচনগেলা মুখ করে জবাবদিহি চাইবেন না, কারণ আজকের প্রাগজ্যোতিষপুরেও জ্যোতিষীদের নিদান অমোঘ সত্য যে!

জঙ্গলের আইন নিয়ে কী যেন লিখেছিলাম আগের কিস্তিতে?

Self-Publishing: Part Two The Mysterious World of Book Promotion

Before putting yourself in the shoes of an authorpreneur ( a term liberally used by independent authors and self-publishing organisations to tell that the author is the owner of his/her books and hence owns the full responsibility for its success), try to think what influences your purchase decisions in respect of books. I will broadly touch upon the factors that play in my mind.

  1. Grab a copy of the latest book of my favourite authors. I would not miss out on a Frederick Forsyth or a short stories collection from Jeffrey Archer. Unfortunately, you are neither of them. In fact, no one outside your social circle has ever heard of you.
  2. Have a look at the catalogues of reputed publishers to see if any upcoming book interests me. For a self-published author, the only way that this can happen is if the publishing house hosts the information of your book in their website. Sadly, besides aspiring authors, very few people access these websites and the number of titles they offer is so huge at any point in time, that your work may not get noticed at all.
  3. Read a glowing review of the book in a major newspaper/ magazine and decide to buy the book. There is good news for you in this regard. Most of the self-publishing platforms do offer such promotional services. The bad news is this comes as a part of the premium package offered by these platforms that can set you back by any amount from Rs. 71k to Rs.251k. The quality of the services differs widely among these platforms and the better ones do not offer these promotional tools at a package below Rs. 149k. If you do not wish to read this lengthy discourse, this is the minimum budget that you should be working with in order to market a good book reasonably well. If you can’t spare as much, please read on.
  4. Listen to a friend’s recommendation. This is where a self-published author can score high without spending a penny. But in order to have a good number of copies sold on account of such recommendations, you need to have a friend circle full of avid readers whom others consult before making a purchase decision. This might sound crazy, but it is better to start working on this aspect much before you plan to submit your manuscript to the publication house. Otherwise, your post-publication attempts to befriend such individuals (called social influencers) may only give rise to suspicion. There is another problem with avid readers. Many of them, if not the majority are acute introverts who would not tell their pet about books they liked. Social influencers, on the other hand, are people who can post images of them reading your book sitting on a commode on Facebook/Instagram and attract few hundred likes. A good percentage of their followers are likely to buy the book based on their recommendation. Thus, the strategy is to find such people and more importantly find any common interest with respect of which you can interact with them in an intelligent manner. Sending hourly good wishes including soul searching messages for bidding the other a good time of the day is certainly NOT the way. Once you have established a little bit of camaraderie, broach the idea of the book that you have in mind. Probability is they would volunteer to support the book. If you are more industrious and have ample time at your disposal, join the real world author’s clubs and even literary clubs of eminent colleges/ universities at your location.
  5. ‘Discover’ a Book at a Bookstore: Though anyone would tend to believe that online portals are ‘the’place where books are sold, a visit to any bookstore of repute for few hours might change your outlook. Have you ever noticed those piles of a particular book kept on the window of a famous outlet or, book spirals placed inside the store? How many of you would go to a Crossword Store to name one and not look at their bestseller and ‘Crossword Recommends’ display? Reaching the bestseller rack would take more than some serious monetary investments, but all other special displays including the frontal display of a book among hundred others showing their spines to you can be “bought” for a price. While self publishing platforms again provide these services for their authors at a price between 3k and 5k for each store they have a collaboration with (you can not select only one, again the offers are bundled so that you have to shell out at least 10k), a smaller distributor can get you a better priced deal with wider coverage. Minimum consideration payable for wide area distribution in India is 30k while any special display requirement will add that 10k to the package. Large distributors DO NOT distribute works of self-published authors as a rule.

Finally, it’s time to discuss some other promotional tools that you have an access to (all at a price, of course).

Book Launches.
Three-pronged formula to make it successful.

LET IT KNOWN TO THE MAXIMUM POSSIBLE PEOPLE. Try to send out personalised invitations.

Have at least one celebrity guest to attend and reveal the book. Choose your celebrity carefully according to the genre of your book and target audience.

Have sufficient number of copies in stock for the event.

Tentative cost: Anything in the region of 60k. This is in addition to the 149k package we discussed earlier.

Integrated Online Campaigns

This includes Amazon sponsored advertisements, Facebook ads, Quora coverage, Goodreads reviews, reviews on eminent book blogs, Youtube videos, Instagram and Twitter Reviews, Amazon (positive) reviews, author and book websites, author interviews in blogs, mass e-mails, etc. The idea is to bombard the senses of the audience with information about your book. Each medium can contribute a small number of additional sales. You can subscribe to such services offered by various bloggers independent of the higher priced packages of the self-publishing platforms. A budget of 30k here should ensure continuous visibility for up to three months. Rightly done, this can act as a substitute of a physical book launch. Bookmarks, book cover t-shirts, book posters, visiting cards, etc. are all paraphernalia to both online and offline promotions.

Review Copies and Giveaways

Review copies can be sent to top reviewers and bloggers, subject to prior communication and acceptance. Most of them charge an additional amount for review within a certain period of time. This can vary from Rs. 400 to Rs. 7k for each individual. The median lies somewhere between Rs. 500 and Rs. 1k and spending more than that for a standalone review may not be judicious. Please keep in mind that a certain number of reviews has already been included in the integrated online campaign and hence this is only a Top Up option.

Some of the bloggers can offer Giveaways of your book on their blog. Some can run the same on Goodreads, which will ensure better visibility and reach.

Amazon Prime and Amazon Pre-order

Both requires you to be a registered seller with Amazon and a printer at your home. Alternatively, your self-publishing platform can offer you these limited period services for a fee of 7k+.

Today, the Indian authors depend much on Meet and Greet the Author events held at individual educational institutions, bookstores, etc. Each event will add to the cost. However,as warned at the very beginning, producing a bestseller is a costly affair. Royalties alone can not compensate you fully. Even the biggest names in the business are in the green because of their earnings from speeches, public and media appearances.

65k for designing a super cool book (discussed in Look before you Leap), 40k for premium distribution (minimum), 7k for Amazon Prime and 30k for an integrated online campaign.

A word of caution: Even after spending this mini fortune of 1.42 lakh and up, you have to depend considerably on your luck to become a bestselling author with your first book. At best, it can be an excellent launchpad for a long writing career ahead.

Self-Publishing: Look before you Leap

One of the few questions that your Publishing Consultant is going to ask is “What do you want to achieve as an author?”

If your answer points to writing a bestseller, and you are going for self-publishing, then you should have very deep pockets. I will try to explain why.

First, let us understand what is a bestseller? Well, it depends on the genre. If it is a non-fiction or a book of poetry, sale of 2,000-odd copies would make it a bestseller. However, when it is a fiction and a novel at that, the industry standard is set at 10,000 copies.

Now, let us assume that you have written the next Harry Potter novel i.e. an absolute winner in terms of both literary value and sales potential and yet none of the established publishing house could accommodate you in their busy printing schedule. Some of them use such polite language while many would be blunt enough to tell you that they don’t see enough potential in your proposal. So, what would you do with your prized manuscript with no takers? Here steps in the self-publishing guys. Their model works on acceptance of anything and everything that comes their way. So, once you are on board, you are almost sure to see your book hitting the virtual stands. I am saying ‘almost’ as I have seen people complaining about the self-publishing imprint of a very big publisher playing selective with the content, but under normal circumstances I have not seen anything getting rejected by these organisations.

The lack of any entry barrier, however, can have an adverse effect on the quality of your book leading to its dismal performance. Everyone would probably admit that the mistakes that we make while writing in foreign language such as English can ever be detected by ourselves. You need at least a pair of trained eyes to find these and no matter how good your friends or relatives are with the language under reference, it is better to entrust someone who will have no preconceived notions about your writings with the proofreading. A good proofreading service for a 50,000 word book will cost anything between Rs. 10k and Rs. 30k. We will set aside Rs. 10K for this essential service here.

Proofreading will ensure that your book is free from spelling and grammatical errors which can put off a reader to the extent that he or she may decide not to buy any of your books again. Add to that the negative mouth publicity. You can not remain sensitive to the cost any more.

Proofreading , on the other hand, does not deal with a downright bad narration. If anyone can help you with re-writing and restructuring your text to make it more marketable, it is the copy editors. If you are engaging a professional copy editor, you may dispense with proofreading services but the damage will be in the region of Rs. 35k.

Now that you have taken care of the interiors, the focus turns on having an attractive cover for your book. This is also very critical as a book by a newcomer can only attract the eyeballs of a buyer at a bookstore among literally thousand others if it has an excellent cover. Customised cover designing including an illustrated cover will cost Rs. 18k.

Having illustrations inside the book adds to the cost of interior designing. A basic interior designing which will help enhance the reader experience and not expose the readers to such irritants as poor placement of headers and footers, parts of words overflowing into the next line or chapters overlapping into each other, costs close to Rs. 6k.

As your book now appears to be ready for printing, you would start thinking about the making the available in electronic format also. After all, the readership of e-books is gaining in numbers and you would want to cover all market segments. The cost is a meager Rs. 6k.

Finally, after spending Rs. 65k, your magnum opus is ready for its launch. You happily announce its arrival on a given date to your friends over various social networks. Except for imperceptible data charges, thankfully, there is no other cost involved. There is a HUGE but hanging about here.

Ask yourself whether you are a social influencer. Do you have at least a thousand Facebook friends? How many of them are following you? The chances are only 1/6th of your Facebook friends follow your posts on a regular basis. So, even if you have hit the ceiling of 5k friends in FB, only 800-odd are going to see that update. We assume that you are so popular on FB, that all 800 likes the post. Great beginning, right? I do not intend to go on pricking the balloons but the question is how many of these likes are going to be converted into actual sales? Empirical evidence says, at the very best only about 70% will be willing to buy the book and in reality, with some goading from you that would require you to be shameless, the actual sales figure from your free Facebook post could be at 50% of the likes i.e. 400. Not all of us are crazy enough to have 5000 in our friend list though.

You would say, no problem, I give a damn to FB and i have few thousand twitter and instagram followers. Bad news for you is that only 2-3% of your followers on these platforms are likely to ever pay for your book. Even with 10k-odd followers, which in itself is a utopian assumption, you can not generate sales of more than 300 copies.

Now, these three platforms together conceivably covers 95% of your contacts of any kind. Those who are not present here include the all-important daily service providers. most of whom unfortunately do not read much. Relatives, in this age of nuclear families, can be counted on fingers and at least a few of them would expect that they get a complimentary copy of the book, even if they are going to sell it off along with old newspaper copies. It’s not a very good gesture to look at your relatives as potential buyers and hence you can only hope to barely reach the double digits in this segment.

Now some good news. Out of the 700-odd copies that your book would sell, it is possible that at least 70 would generate positive reviews on social networking platforms and online shopping portals. These just might help you to generate an equal number (70, not 700) of sales.

You are still a good 9,200 copies short of that bestseller tag.

Am I forgetting something? Oh, yes, your workplace. The chances are that you work for a pan-India organisation with a staff strength of four hundred thousand! The question is how many of them do you actually know? With ten-plus years of experience, you might be lucky to know and remember (impossible for a regular human being) and more importantly be remembered by 20k-odd people. Roughly 10% of these may turn out to be genuinely interested in the creative pursuits of their collegaue. Does it mean you will be selling 2000 copies inside your organisation? Not necessarily, but let us give you the benefit of doubt.

Now, you have practically exhausted all the avenues that were open to you for selling your book without incurring any ad spend. The cost of making the book available online has been 65k and you have sold 2.8k copies. As the royalties are high in self-publishing, you would probably just about break-even or even make a profit of 5k odd. But, you have to forget the dream of becoming a bestselling author.

A bigger problem is the assumption that you work for a corporate behemoth with a largely English-speaking employee base such as TCS. Even with a workforce thrice as large as TCS, the distribution and composition of the employees of the Indian Railways might not offer a larger reader base. For employees of organisations with number of employees hovering in the thousands, which happens to be the median, achieving a sale of 1,000 copies (including 770 outsiders) is itself pretty big. So, the probability of you losing money and sleep over a self-published fiction is pretty high- more than 90 per cent.

Does that mean you can not sell self-published work? The answer is no. But, you would require an effective marketing strategy to back a reasonably well produced book. In some rare cases, marketing can do wonders for a poorly written and curated book, but as Lincoln had famously said, “You can fool all the people some of the time, and some of the people all the time, but you cannot fool all the people all the time.”

Next installment: The Mysterious World of Book Promotion

Bloggers’ Adda: ‘They Go to Sleep’

You can buy ‘They Go to Sleep’ at: https://www.amazon.in/They-Go-Sleep-Saugata-Chakraborty/dp/168466361X

Before that, you may like to see what the leading book bloggers of India have to say about the book. This post will highlight such independent blogs with brutal honesty.

  1. The following excerpt is from the bookworld.in review by Ritu Maheshwari. Please don’t go by her Amazon reviewer rank (679) alone. A look at her profile will tell you that she does not mince her words even for books by celebrities. Read the complete review that talks in length about pros and cons of the book at: https://bookworld.in/they-go-to-sleep-saugata-chakraborty-short-stories/

“The stories are not theme based hence each one is unique and
independent in itself. In this way the author manages to avoid
monotonous voice in the collection.

Endings are unpredictable. So you have to read till the end when you
start one. The climax of The Short Lives of Shazia Sultana was completely out of the box. It took me by surprise.

The stories are not an easy breezy read. It is a short book of only
100 pages or so, but it took me five days to complete it. The stories
are not soul searching or heavy read that you have to take breaks
every now and then. Somehow the writing style of the author, too many characters, sub stories, multiple plots made it difficult to read the
book in a flow. You have to keep going back as you have lot the track.”

2. From the haloofbooks.com review by Sheetal Maurya (Amazon reviewer rank #1483), her perception about the book is reproduced below. If you wish to have a synopsis of the book, please read the full review at https://www.haloofbooks.com/they-go-to-sleep-by-saugata-chakraborty-book-review/

“This book runs to 100 pages but this is not a vague read and the readers have to fully concentrate on the story. Each story belongs to a different genre and they give different essence. All the stories are wonderful but it is meant for the serious readers which is a kind of drawback to the book. I just loved the last story of the book ‘What’s in the name?’ and the paranormal story of ‘it was time’. ‘The man of letters’, ‘Aperture’, ‘The short life of Shazia Sultana’ are also an engaging read. The story formation needed to be simple as it would have increased the joy of reading.

In the nutshell, this book is a bit complicated to read, but surely worth to read as the readers find 12 different genre and clever stories in one platter.”

3. Tarundeep Singh, author of three highly acclaimed books, has noted:

” When I started reading the book I was impressed by author’s prowess of conveying the message. I think author’s writing style is tailor-made for thriller stories. He keeps his readers guessing and twists in stories are good. If you miss one line, you may miss the twist so you have to remain focused. “

Read the full review at: http://tdsbooks.com/40-book-review-9-they-go-to-sleep-by-saugata-chakraborty/

4. Rakhi Jayashankar, leading book blogger and Amazon Reviewer Rank #266 has termed ‘They Go to Sleep’ as a ‘Literary Delight’. She writes:
“The style of narration is something that needs special mention. Author’s capability to play with words is impeccable.”

Read her well measured review at: https://rakhijayashankar.blogspot.com/2019/03/they-go-to-sleep-by-saugata-chakraborty.html

5. Ankita Singh (Anky’s Book Bubble), a teenage poet and book blogger from Aurangabad, Maharashtra, however, have found the ” writing to be too formal for a narrative fiction in some places, which made that particular story drag on.” As a result, some stories could not hold her interest for longer than a couple of minutes. Ankita’s Goodreads review of the book can be accessed at: https://www.goodreads.com/book/show/43655707-they-go-to-sleep

6. Alice Singh aka Sputnik, a medical student currently based in Meerut, on the other hand, found the book to be lovable. Her verdict: ” Overall, I would strongly recommend this book to all who want to read something different while rejuvenating the gears of your brain”.

Link to the full review:
https://sputnikstron.wordpress.com/2019/03/25/they-go-to-sleep/

7. Dr. Aishwarya Rathor alias Dr. Snob from Raipur, Chhatisgarh opines that ” The author has written the plots Creatively and not a single story is boring.” Her blog hosts a brief review here:

https://snob26.wordpress.com/2019/03/26/they-go-to-sleep-by-saugata-chakraborty/

8. The other doctor, Dr. Ruchi Patel from Mumbai felt that the book isn’t filled with same concept of monotonous stories. Her glowing review for the book can be found at:

https://drruchipatel.wordpress.com/2019/03/26/they-go-to-sleep-by-saugata-chakraborthy-my-ratings-3-5-stars-book-review/

9. Grishma Nivane (Amazon Reviewer Rank 238) from Nagpur wrote the most elaborate review so far. That is some effort. I am not trying to highlight a part of the review that requires a full reading. Here it is:

https://grishmaninave.wordpress.com/2019/03/27/my-review-of-the-book-they-go-to-sleep-by-saugata-chakraborty/

10. Swapna Peri from Hyderabad finds the use of difficult vocabulary a put off. In her blog, she however, has recommended the book for abstract book lovers.

https://betareadingbysappy.wordpress.com/2019/03/27/they-go-to-sleep/

11. Ritika Chhabra, a student of English Literature, found the book to be a decent read which she had thoroughly enjoyed. By a “nice” read she meant that none of the stories was uninteresting in any sense. One can read her full review at:

https://justagirlhighonbooks.wordpress.com/2019/03/28/they-go-to-sleep-by-saugata-chakraborty-a-book-review/

12. Diti Shah, a foodie, traveler, and a bibliophile from Ahmedabad, has felt that each of the stories in the book has the ability to be a own standalone story or quite a long story that will take a few hours to finish and compiling those in a few pages is a task superbly done. She is quite effusive in praising the book in her blog post. Here is the link:


https://foodntraveljournal.wordpress.com/2019/03/29/they-go-to-sleep-by-saugata-chakraborty/

বড়আপ্পা

বাবার থেকে বয়সে অনেকটাই ছোট। ন’কাকা না বলে আমরা ডাকতাম বড়আপ্পা, কেন জানি না।

১৯৮২ বা ‘৮৩। আমি কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হইনি তখনো। দাদা ক্লাস টু’র বার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছে। থাকা হয় ধনদেবী খান্না রোডের ভাড়াবাড়িতে। সে বছর বড়আপ্পা স্কুলের শীতের ছুটিতে কলকাতায় এলো টেপ ডেক নিয়ে। শিলিগুড়ির হংকং মার্কেট থেকে কেনা নতুন নতুন জিনিস ভীষণ শৌখিন বেহিসেবী খরুচে লোকটার হাত ধরে ঢুকে পড়তো আমাদের শৈশবে। মনে আছে ওদের বিয়ের ঠিক আগে আগে একরকম জোর করেই একটা ইনডোর ক্রিকেট বোর্ড কিনিয়েছিলাম। যাই হোক সেই বিরাশি বা তিরাশির এক দুপুরে, বাবা চলে গেছে অফিসে, উচ্চকিত “I am a disco dancer” পাশের ঘর থেকে ভেসে আসছে শুনে ছুট্টে গিয়ে দেখি আমার থেকে বছর কুড়ির বড় বড়আপ্পা আর চার বছরের বড় দাদা ছোট খাটটার উপর উঠে গানের সঙ্গে উদ্দাম নাচছে। তারপর ধড়াম। খাট ভেঙ্গে দু’জনেই মাটিতে।
তা এরকম দুর্ঘটনা সেই শেষ নয়। আরেকটু বড় হয়েছি। সেবারেও পুজোয় ভীষণ বৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবারের মতো আমরা দিনহাটায়। দোলনদা, বুবাইদা, দাদা আর আমি এক সাইকেল রিক্সায় উঠেছি। আমি যথারীতি কোলে। রিক্সা চালাবে কে? না, বড়আপ্পা। সাইকেল রিক্সা খুব বিপজ্জনক যান। তিনচাকার অন্য কোন বাহনই এতটা ভারসাম্যহীন হয় না। বেগতিক বুঝে ঠিক সময়মতো উল্টোদিকে রাস্তায় দিলাম ঝাঁপ। চালক ও বাকি সওয়ারিরা ততক্ষণে রিক্সা সহ পাশের কাদা ভর্তি হাইড্রেনে গিয়ে পড়েছে। ‘নায়ক’ ছবির অনিল কাপুরকে মনে আছে? সেরকমই আপাদমস্তক কাদামাটি মেখে চারমূর্তি উঠে এলো।
১৯৯১-এ মহারাষ্ট্রে বেড়াতে গেছি। সদাশিব হনুমন্তরাও জেসুদেবন বিরাজদারের সাদা অ্যাম্বাসাডর আমাদের সফরসঙ্গী হলো ঔরঙ্গাবাদ থেকে। মহাবালেশ্বরের পথে সহ্যাদ্রীর ঘাটিতেও দেখা গেল সদাশিব সমতলের গতিই ধরে রেখেছেন। সামনের সীটে বসে প্রত্যেক মোড়ে বড়আপ্পাকে ইষ্টমন্ত্র জপ করতে দেখে সদাশিব জিজ্ঞেস করলেন কাকে স্মরণ করছে? সেটা ছিল বড়আপ্পার ব্যাচেলর ট্রিপ। পরের জানুয়ারিতেই বিয়ে। সেটাও সম্ভব হচ্ছে বাবা মায়ের হস্তক্ষেপে। রীতিমত পুরোহিত দর্পণ ঘেঁটে বাবা একটা রত্নসম শ্লোক তুলে এনেছিলো যাতে এই অসবর্ণ বিয়েটা আটকানো না যায়। বড়আপ্পা আর আপ্পির জাতধর্ম আসলে একটাই। খেলোয়াড়ের। দু’জনে জুটি বেঁধে টেবিল টেনিসে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আগেই। বিয়ের পর দেখলাম বাড়িতে একমাত্র বড়আপ্পিই আমাকে দাবায় হারিয়ে দিচ্ছে বারবার। 
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগটা সেই উজ্জ্বল বড়আপ্পিকে আস্তে আস্তে পরনির্ভরশীল করে তুললো। যেভাবে নিজেদের সামলেছে দু’জনে দুজনকে ঐ প্রতিকূলতায়, তাতে ভালোবাসা বললেই আমার ওদের কথাই মনে পড়ে। তারপর রাজগঞ্জের বাড়ির সামনের মাঠে বড়আপ্পা শুরু করলো নিজের ফুটবল আকাদেমি। মফস্বলের অতি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা ছেলেগুলো স্বপ্ন দেখতে শিখছিলো। তখন ইস্টবেঙ্গলের জুনিয়র টিমের কোচের দায়িত্বে বড়আপ্পা। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে দলের ম্যাচ চলাকালীন পড়ে গেল। কিছুদিন পরেও হাঁটাচলায় অসুবিধে থাকায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা শুরু হয়। মাস কয়েক পরে ওখানকার চিকিৎসক দিল্লির AIIMS-এ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের সুপারিশে ওরা অগ্রাধিকার দিয়ে পরীক্ষা করে জানালেন মোটর নিউরন ডিজিজ। কিছুদিন পরে হুইলচেয়ার। ওদিকে আকাদেমির ছাত্ররা ডার্বির জয় উৎসর্গ করছে উত্তম স্যারের নামে, এই খবরগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছিলাম আমরা। আজ প্রায় দু’বছর পর এক অসহনীয় উল্টোগুনতি শেষ করে চলে গেল মানুষটা। আত্মীয়বিয়োগ নয়, বন্ধুবিয়োগের ভার আজ।


(ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে ২০১৮তে উত্তম চক্রবর্তীর হাতে তুলে দেওয়া হয় জীবন কৃতি সম্মান। ময়দানে মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গল মাঠে ওঁর হাত ধরেই গেছি। সেই পালা সাঙ্গ হলো আজ।)